সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬, আষাঢ় ২৯ ১৪৩৩

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

বন্যাকবলিত ১১ জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

আলোআভা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৭:১৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

বন্যাকবলিত ১১ জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন । ছবি সংগৃহীত

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো রোগী যাতে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে জন্য মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১ জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধির আশঙ্কায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা পর্যায়ে ২১ হাজার ভায়াল মজুত রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম (০১৭৫৯১১৪৪৮৮) খোলা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়