ছবি সংগৃহীত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। এ বছরের প্রথম চার মাসে হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন ৪৯টি শিশুর শরীর থেকে জীবাণুর নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই আর কোনো কাজ করছে না। প্রতিটি গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণু প্রধান ছয়টি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে শতভাগ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বর্তমানে কেবল টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন নামের দুটি ওষুধ কার্যকর রয়েছে। তবে গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, শেষ ভরসার এই কলিস্টিনও দ্রুতই কার্যকারিতা হারাতে পারে।
গবেষণার নেতৃত্বদানকারী ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম সারির ছয়টি ওষুধের গড় প্রতিরোধের হার ছিল ৮৩.৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে এক লাফে পুরো ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। আগে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছে এমন শিশুদের মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট সংক্রমণের ঝুঁকি সাধারণ শিশুর চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি। এই সুপারবাগে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে সময় লাগছে স্বাভাবিকের দ্বিগুণ।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং অসম্পূর্ণ কোর্সই এই সংকটের মূল কারণ। এ থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ, হাসপাতালে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং দেশব্যাপী জাতীয় তদারকি ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।































