শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬, আষাঢ় ২৭ ১৪৩৩

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

পে-স্কেলের ঘোষণা, হতাশ বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ১১ জুলাই ২০২৬

পে-স্কেলের ঘোষণা, হতাশ বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা এলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বেসরকারি চাকরিজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আয় অপরিবর্তিত থাকায় বৈষম্য আরও প্রকট হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। ফলে পে-স্কেলের সুবিধা সীমিতসংখ্যক মানুষ পেলেও মূল্যস্ফীতির চাপ বহন করতে হচ্ছে পুরো জনগোষ্ঠীকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জুন-২০২৬ মাসের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, জুনে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি কমে দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে, যা মে মাসে ছিল দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ . মাহফুজ কবীর বলেন, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও মূল্যস্ফীতি, বৈষম্য, দারিদ্র্য তারল্যসংকটের মতো চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের আগাম পরিকল্পনা প্রয়োজন।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, ডিম, মুরগি, মাছ, মাংস সবজিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়া অনেক পণ্যের দাম এখনো কমেনি। এতে মধ্যবিত্ত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় আরও বেড়েছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. হাসনাত বলেন, মাসে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে ছয় সদস্যের পরিবার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পণ্যও আগের মতো কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে দেশের বাকি জনগণ মুক্ত নয়। তাই শুধু বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতার অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন না। বাজার তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়