ছবি সংগৃহীত
দেশে হাম, পোলিও, যক্ষ্মাসহ ছয় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ টিকার কেন্দ্রীয় মজুত ফুরিয়ে গেছে। যদিও মাঠ পর্যায়ে কিছু টিকা বিদ্যমান রয়েছে বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
প্রতি বছর দেশে ৪০ লাখের বেশি শিশু জন্ম নেয়। তাদের সুরক্ষায় জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত ১২টি রোগ প্রতিরোধে নয় ধরনের টিকা দেওয়া হয়। বর্তমানে যেসব টিকার মজুত শেষ হয়েছে সেগুলো হলো—হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টার এবং হেপাটাইটিস-বি।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতরের অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিল হওয়ায় টিকা কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং টিকাদানের হার কমে যায়।
পরবর্তীতে টিকা ক্রয়ের জন্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে শিশুদের টিকার জন্য রাখা হয় ৮৪২ কোটি টাকা। সরাসরি ক্রয়ের পাশাপাশি টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, আগে টিকা সরাসরি ইউনিসেফ থেকে কেনা হতো। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আংশিক টেন্ডারের মাধ্যমে কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলে জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হলেও বিকল্প কোনো প্রস্তুতি রাখা হয়নি। এর ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে আবারও সরাসরি ক্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশে ইতোমধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।































