ছবি সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা ‘গুঞ্জন’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধানে সে সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি বাস্তবে ঘটে, তখন আমরা দেখব।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব ছাড়তে চান, তাহলে সাংবিধানিকভাবে তার সে সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এখানে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কিছু বলা হচ্ছে না। তিনি (রাষ্ট্রপতি) স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন কি না, সেটি তাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে।”
বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সাংবিধানিকভাবে সেই সুযোগ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আমিও পত্রিকায় এসব খবর দেখছি। তিনি যদি পদত্যাগ করতে চান, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সেটি পরে দেখা যাবে।”
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আর ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। সংবিধান অনুযায়ী, তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।































