ছবি সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের অভাবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাঝপথেই থেমে গেছে হানিফ পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস। এতে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। বাসটি আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে প্রায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল।
সরেজমিনে সকাল আটটার দিকে দেখা যায়, বাসটি মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিছু যাত্রী বাসের ভেতরে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সময় চালকের সহকারীকে বালতি নিয়ে আশপাশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের খোঁজ করতে দেখা যায়। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও তেলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
যাত্রী ওবায়দুর রহমান জানান, তিনি টেকনাফ যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে বাসে উঠেছিলেন। পথে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১০ থেকে ২০ লিটার করে তেল নেওয়া হয়। এমনকি বেশি তেল পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়েছে। তারপরও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি মাঝপথে থেমে যায়।
আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, সকাল ৯টায় কক্সবাজারে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারবেন কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বাসচালক ওসমান গনি জানান, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে মোট ১৬০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হলেও তিনি মাত্র ৭০ লিটার নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। পথে তিনটি ফিলিং স্টেশন থেকে অল্প কিছু তেল পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ জায়গায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল পাওয়া যায়নি। সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে এখনও অন্তত ৬০ লিটার তেল প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে নামার কথা থাকা কিছু যাত্রীকে ভাড়ার টাকা দিয়ে লোকাল পরিবহনে পাঠানো হচ্ছে। বাকি যাত্রীদের কোম্পানির অন্য একটি বাসে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।































