ছবি সংগৃহীত
মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের চোখে ধরা পড়ে ভয়াবহ এক দৃশ্য–যা উন্মোচন করে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন হত্যাকাণ্ডের নতুন অধ্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তর উপকূলে কায়াক চালিয়ে মাছ ধরার সময় একটি দুর্গন্ধযুক্ত কালো ব্যাগ দেখে সন্দেহ হয় ওই জেলের। কাছে গিয়ে ব্যাগটি খুলতেই ভেতরে মানবদেহ দেখতে পান তিনি। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে, যা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে শনাক্ত করা হয়।
হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার জানান, জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপে আটকে গেলে সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি তীব্র দুর্গন্ধ পান। ঝোপের ভেতরে থাকা আংশিক খোলা প্লাস্টিকের ব্যাগে লোনাপানি ঢুকে পড়েছিল। তখনই তার সন্দেহ হয়, সেখানে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে।
মরদেহটি পচে যাওয়ায় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা ও দাঁতের রেকর্ডের সহায়তা নিতে হয়। তবে নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টি যে পোশাক পরেছিলেন, মরদেহে একই ধরনের পোশাক থাকায় প্রাথমিকভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়।
নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টিকে সর্বশেষ দেখা যায়, আর ১৮ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন। পরে তদন্তে লিমনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার চশমা, আইডি কার্ড, মানিব্যাগ ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়।
ফরেনসিক বিশ্লেষণে অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘর এবং অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর কক্ষে বিপুল রক্তের দাগ পাওয়া যায়। প্রযুক্তির সহায়তায় মেঝেতে মানবদেহের ক্ষুদ্র ছাপও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
এছাড়া, অভিযুক্ত তার ফোন থেকে তথ্য মুছে ফেললেও তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তার সার্চ হিস্ট্রি ও কথোপকথনে হত্যার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছুরি দিয়ে খুলি ভাঙা, গুলির শব্দ শোনা যাবে কি না কিংবা মরদেহ গুমের উপায়—এমন নানা বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিল সে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, বৃষ্টির মরদেহ গাড়ির ট্রাংকে করে সরানো হয়েছিল। অন্যদিকে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায় একটি ব্যাগে, হাত-পা বাঁধা অবস্থায়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এখনো হত্যার মোটিভ স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ































