ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একরন শহরে বাংলাদেশি এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। ২৭ বছর বয়সী মিতু বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসার বেসমেন্টে গলায় ফাঁস দেন তিনি। মৃত্যুকালে রেখে গেছেন ছয় বছরের একমাত্র কন্যাসন্তান। সেদিন শিশুটি স্কুলে ছিল। বাড়ি ফিরে মায়ের সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী স্বামী মাহবুবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। সন্দেহ, অবিশ্বাস ও পরকীয়ার অভিযোগকে ঘিরে সম্পর্কে অস্থিরতা তৈরি হয়। মিতুর অভিযোগ ছিল, তাঁর স্বামী অন্য এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় পরিচিত মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। সালিশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে মিতু কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনকে ফোন করে জানান, তাঁকে ডিভোর্সের কাগজে সই করতে বলা হয়েছে। বিচ্ছেদের পর বাড়ির মালিকানা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কথোপকথনের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
বিকেলে তিনি নিচতলায় যান। কিছু সময় পর স্কুল থেকে ফিরে সন্তান মাকে না পেয়ে প্রতিবেশীদের জানায়। পরে জরুরি সেবা ডাকা হলে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই দম্পতির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন তেমন কেউ নেই। মিতুর এক ভাই পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, দুই বোন ঢাকায়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। একরনের বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
প্রবাসী কমিউনিটির সদস্যরা বলছেন, দাম্পত্যে অবিশ্বাস, মানসিক দূরত্ব এবং প্রবাসের একাকিত্ব অনেক সময় মানুষকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে তাঁরা মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও পারিবারিক কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিচ্ছেন।
মিতুর মৃত্যু একটি পরিবারের ভাঙনই নয়, ছয় বছরের এক শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন কমিউনিটির অনেকে।






























