শনিবার ০৬ জুন ২০২৬, জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪৩৩

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

জিগাতলায় গৃহবধূকে মারধর, চোখে গুরুতর আঘাত: দেবর-দেবরের স্ত্রী গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৫০, ৬ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪৩, ৬ জুন ২০২৬

জিগাতলায় গৃহবধূকে মারধর, চোখে গুরুতর আঘাত: দেবর-দেবরের স্ত্রী গ্রেফতার

বাম পাশে গ্রেফতার পায়েল ও স্ত্রী সাদিয়া, ডানে ভুক্তভোগী উম্মে সালমা সুলতানা নিশু

ঢাকার হাজারীবাগ থানার জিগাতলা মুন্সিবাড়ি এলাকায় দেবর ও দেবরের স্ত্রী মিলে গৃহবধূকে নির্মমভাবে মারধর করে চোখে গুরুতর জখম করার ঘটনায় দীর্ঘ পলাতক থাকার পর অবশেষে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৫ জুন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার আগরপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

জানা গেছে, গত ২২ মে ২০২৬ দুপুর আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে জিগাতলা মুন্সিবাড়ি এলাকার একটি ভবনের ৪র্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ উম্মে সালমা সুলতানা নিশু (৩৭) অভিযোগ করেন, তার স্বামী বাইরে থাকার সুযোগে দেবর মোহাম্মদ বাহাউদ্দীন মুন্সী পিয়েল (৪০) এবং দেবরের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা (৩০) তার সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে দেবরের স্ত্রী তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। এরপর দেবর পিয়েল ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগীকে মেঝেতে ফেলে পা দিয়ে বাম চোখে লাথি মারেন, যার ফলে চোখে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়। ভুক্তভোগী চিৎকার করলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একইভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার দেবর পিয়েল স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা ও তার পরিবারের প্ররোচনায় বারবার এই নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এমনকি সাদিয়ার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থও পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সাদিয়ার পিতা মো. মোখলেসুর রহমান ও মাতা সুলতানা আশরাফীসহ তার পরিবারের পক্ষ থেকেও ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ পরিস্থিতিতে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন। ভুক্তভোগী মনে করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই আঘাত করা হয়েছে।

আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ পরেও তিনি আক্রান্ত চোখে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাচ্ছেন না।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী হাজারীবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৬, তারিখ: ২২/০৫/২০২৬)। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আসামিরা পলাতক থাকায় ভুক্তভোগী পরবর্তীতে র্যাব-২-এর কাছেও দ্রুত গ্রেফতারের আবেদন জানান। অবশেষে মামলার ১৪ দিনের মাথায় পুলিশ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার আগরপুর গ্রাম থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের দিনই তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

হাজারীবাগ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. আবু সাইদ চৌধুরী মামলাটি তদন্ত করছেন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়