ছবি সংগৃহীত
একটি সিনেমার শুটিং শেষ, কিন্তু পারিশ্রমিক নেই। আরেকটির চুক্তি হয়েছে, কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। এমনকি যে সিনেমা বিক্রি হয়েছে, সেটির মালিকানাই ছিল না বিক্রেতার। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নির্মাতা রাইসুল ইসলাম অনিককে ঘিরে একের পর এক এমন অভিযোগ এখন সামনে আসছে।
শিল্পী থেকে কলাকুশলী, গ্রাফিক্স ডিজাইনার থেকে সংগীত পরিচালক — অভিযোগকারীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের গুরুতর অভিযোগও।
যেভাবে বিতর্কের শুরু
বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে বিগ সিটি এন্টারটেইনমেন্টের একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, একাধিক অনিয়মের কারণে রাইসুল ইসলাম অনিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করা হয়, ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন না করতে। অনিক অবশ্য দাবি করেছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে মিটমাট হয়ে গেছে।
কিন্তু এরপর থেকেই একে একে সামনে আসতে থাকে আরও অভিযোগ।
'শুটিং করেছি, টাকা পাইনি'
অভিনয়শিল্পী আইমন শিমলা জানান, 'আমাকে বিশ্বাস করেন ভাই' চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, কিন্তু কোনো সম্মানী পাননি। চুক্তিপত্রও হয়নি। ভোররাত পর্যন্ত শুটিং করার পর পরদিন শরীর অসুস্থ থাকায় যেতে পারেননি — আর সেই কারণেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। শুধু তা–ই নয়, ওই শিডিউলের কারণে অন্য কাজও হারাতে হয়েছে তাঁকে।
অনিকের পাল্টা বক্তব্য, গাড়ি পাঠানোর পরও আইমন আসেননি, ফোনও ধরেননি। বাজেট কম থাকায় শুটিং ফাঁসলে ক্ষতি হয়ে যেত বলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
এক বছর ঘুরেও পাওনা মেলেনি
গ্রাফিক্স ডিজাইনার এমকে এ তুষার জানান, 'চারুলতা' সিনেমায় কাজের বিনিময়ে তাঁর পাওনা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এক বছর ঘুরে পেয়েছেন মাত্র ১৫ হাজার। বাকি টাকা আদৌ পাবেন কিনা, সে নিশ্চয়তা নেই।
সংগীত পরিচালক আহমেদ হুমায়ূনের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজ শেষ করে প্রায় এক বছর অপেক্ষা করেছেন। এর মধ্যে একবার মাত্র ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি তোলার পর আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মোট পাওনার তুলনায় এই অর্থ নগণ্য বলে মনে করেন তিনি।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের গুরুতর অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এসেছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রযোজক ইমদাদুল ইসলাম যিকরান জানান, ২০২৪ সালে 'চারুলতা' নির্মাণে চুক্তি হয়। পরে নানা জটিলতায় ২০২৫ সালে নতুন চুক্তি করা হলেও সিনেমার কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। পূর্ণ বাজেট ও শুটিং সহায়তা দেওয়ার পরও কাজ বুঝিয়ে দিতে পারেননি নির্মাতা।
এর চেয়েও বড় অভিযোগ 'ইতি চিত্রা' নিয়ে। সাদামাটার দাবি, সিনেমাটি তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, কিন্তু পরে জানা যায় ওই চলচ্চিত্রের কোনো বৈধ মালিকানাই ছিল না অনিকের। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, এটি সরাসরি প্রতারণা।
নিজেই স্বীকার করলেন ব্যর্থতা
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে পাঠানো এক চিঠিতে অনিক নিজেই স্বীকার করেছেন, প্রযোজকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বাজেট নেওয়ার পরও 'চারুলতা' শেষ করতে পারেননি। কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক বাকি, ওয়াদাভঙ্গ এবং অপচয়ের দায়ও ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন তিনি।
তবে সাদামাটার অভিযোগ প্রসঙ্গে অনিক বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি, বরং বরাদ্দ বাজেটের চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। কাজ শেষ করার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক সমাধান মেলেনি বলে জানিয়েছে সাদামাটা এন্টারটেইনমেন্ট।































