ছবি সংগৃহীত
বাজারে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই সময়ে এবং একই পরিমাণে দাম বাড়ানোয় বাজারে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে ঢাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এক কেজির প্যাকেটজাত কালোজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৭৫ টাকা। খোলা সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি দরে। অথচ শবেবরাতের আগে এসব চালের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকার মধ্যে।
বাড্ডার মুদি দোকানি হারুনুর রশিদ জানান, স্কয়ার, প্রাণ, আকিজ, সিটি, রূপচাঁদা, ফ্রেশসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো মাসের শুরু থেকেই দাম বাড়িয়েছে। সুপারশপেও সব ব্র্যান্ডের এক কেজির প্যাকেট একই দামে বিক্রি হচ্ছে। আগে যখন দাম ছিল ১৫৫ টাকা, তখনও সব ব্র্যান্ডের দাম ছিল অভিন্ন। ফলে দাম নির্ধারণে কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে।
রপ্তানি অনুমোদনকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা
সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই রপ্তানিকারক। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। রপ্তানি-২ শাখার সিদ্ধান্তে ৬১টি প্রতিষ্ঠান পুনরায় অনুমোদন পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, রমজান সামনে রেখে যখন স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ার আশঙ্কা, ঠিক তখন রপ্তানি অনুমোদন দেওয়ায় সরবরাহকারীরা সুযোগ নিয়েছে। একযোগে কেজিতে ২০ টাকা বাড়ানোকে তারা এক ধরনের সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ হিসেবে দেখছেন।
উৎপাদন, চাহিদা ও রপ্তানি তথ্য
খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয়। স্থানীয় চাহিদা ১২ থেকে ১৫ লাখ টন। একক বছরে ১০ হাজার টনের বেশি রপ্তানি হয়নি। কোম্পানিগুলো দাবি করে, রপ্তানি স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলে না। তবে রপ্তানির অনুমতি বাড়ানোর পরপরই বাজারে দাম বেড়েছে।
সরকার কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ১.৬০ মার্কিন ডলার রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করেছে। ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ধরে এর পরিমাণ প্রায় ১৯৭ টাকা।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ মে ৫২টি কোম্পানিকে ৫ হাজার ৮০০ টন এবং ৮ এপ্রিল ১৩৩টি কোম্পানিকে ১৮ হাজার ১৫০ টন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই ধাপে মোট অনুমোদন ছিল ২৩ হাজার ৯৫০ টন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে।
প্রতিযোগিতা আইনের প্রশ্ন
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ–এর সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, কোম্পানিগুলো যদি একসঙ্গে একই দাম নির্ধারণ করে, তবে সেখানে যোগসাজশের বিষয় থাকতে পারে। প্রতিযোগিতা কমিশনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করা।































