বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪, শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

জবিতে ২১ হাজার শিক্ষার্থীর নেই কোনো বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলর

নীলপদ্ম রায় প্রান্ত

প্রকাশিত: ১৭:৪১, ১৪ জুন ২০২৩

জবিতে ২১ হাজার শিক্ষার্থীর নেই কোনো বিশেষজ্ঞ কাউন্সিলর

ছবি: ইন্টারনেট

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার ১৭ বছর পরে গত ৩রা জানুয়ারি ২০২২ সালে শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য স্বল্প পরিসরে উদ্বোধন করা হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলিং সেন্টার। দীর্ঘ দেড়বছর পার হয়ে গেলেও কাউন্সিলিং সেন্টার থেকে কাঙ্ক্ষিত কোন সেবা না পাওয়ার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর।

সরোজমিনে দেখা যায়, কাউন্সেলিং সেন্টারের দুটি ছোট কক্ষে বসে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মানে) অধ্যায়নরত দুজন শিক্ষার্থী। তারা একে অপরের সাথে বসে গল্প করছেন একই কক্ষে। কোন শিক্ষার্থী সেবা নিতে আসছেন না বলে অলস সময় পার করছেন তারা।

তারা জানান, কাউন্সিলিং সেন্টারে তাদের মত প্রতিদিন একই বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থী এখানে বসেন সেবা দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোন শিক্ষক কিংবা বিশেষজ্ঞ কেউ আসেন না এখানে তাদের দিয়েই নামে মাত্র পরিচালনা করা হচ্ছে কাউন্সিলিং সেন্টার এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে  রাজি হয়নি তারা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমাদের কাউন্সেলিং সেন্টারে কোন ধরনের মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ নেই। নামমাত্র কাউন্সেলিং সেন্টার খুলে সেবা দিচ্ছেন তারা। অনেক শিক্ষার্থী আসলেও সেন্টারে কাউকে না পেয়েই চলে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই জানে না যে কাউন্সেলিং সেন্টার আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে হতাশায় ভুগছিলাম। এক সহপাঠীর পরামর্শে কাউন্সেলিং সেন্টারে এসেছিলাম সেবার জন্য। কিন্তু এখানে কোনো বিশেষজ্ঞই নেই যে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিবে। আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে যা আমার কাছের মানুষরাই আমাকে দেয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, সারাদেশে যেভাবে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করছে আমাদের এখনি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। কখন কি হয় বলা যায় না। এক কাউন্সিলিং সেন্টারের বছরে একটি আনন্দ রেলি শোভাযাত্রা ছাড়া আমি কিছুই দেখি নাই। শিক্ষার্থীদের দিয়ে তো আর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চলতে পারে না। তাদের উচিত প্রতিটি বিভাগে এসে অভিহিত করা শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

কাউনসিলিং সেন্টারের পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ দৈনিক স্লোগানকে জানান, আমরা কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন শিক্ষার্থীকে সেবা দিয়েছি। আমাদের এইখানে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত কাজ করে চলছে। আমরা সপ্তাহে চারদিন (মঙ্গলবার) বাদে আপাতত  সকাল টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্তই সেবা দিয়ে থাকি।

তিনি আরও জানান, এখানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত, চাকুরির পরীক্ষার ভাইবা বোর্ডে ফেল করে, পারিবারিক , অর্থনৈতিক, একাকিত্ব প্রেম সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসেন। আসলে আমাদের লোকবল বিশেষজ্ঞ কোনো কাউন্সিলর নেই তবে আমরা চেষ্টা করি তাদের যথাসাধ্য সঠিক পরামর্শ দেয়ার জন্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা শিক্ষার্থীদের একাকিত্ব সঙ্গ দূর করতে হবে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়