ছবি সংগৃহীত
মার্কিন বিশেষ অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেলসি রদ্রিগেজ। ৫৬ বছর বয়সী এই নেত্রী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেন।
২০১৮ সাল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দেলসি রদ্রিগেজ শপথের পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তার প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। অধিবেশনে মাদুরোর ছেলে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংসদ ভবনের বাইরে হাজারো সমর্থক মাদুরোর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা নিকোলাস মাদুরো নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট। নিজেকে ‘অপহৃত’ ও ‘যুদ্ধবন্দী’ উল্লেখ করে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে।
গত শনিবার ভোরে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর বড় অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে নেওয়া হয়।
এই অভিযান নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা একে অবৈধ সশস্ত্র হামলা বললেও জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ভান্ডার কোনো অপরাধীর হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় সুষ্ঠু পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে। তিনি দেলসি রদ্রিগেজকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন পরিকল্পনার বাইরে গেলে তাকে কঠোর মূল্য দিতে হতে পারে। তবে দেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: বিবিসি































