ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে একজন ব্যবসায়ীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাঁচটি প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।
বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গভর্নর পদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সচিব সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাজ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রয়োজনে সরকারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া। সে কারণেই বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, গভর্নরের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারের চার বছরের মেয়াদের কথা তুলে ধরেন।
সরকার বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর পদ থেকে আহসান এইচ মনসুর-কে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমান-কে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।
এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে তাসনিম জারা পাঁচটি বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান—
১. নতুন গভর্নর সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত হলে তা প্রকাশ করতে পারছেন কি না।
২. তিনি ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা পুরোপুরি ত্যাগ করেছেন কি না।
৩. খেলাপি ঋণ সংকট মোকাবেলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৪. সুদের হার, মুদ্রা সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিতে ধারাবাহিকতা থাকছে কি না, নাকি হঠাৎ পরিবর্তন আসছে এবং তাতে কারা সুবিধা পাচ্ছে।
৫. টাকার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক থাকছে, নাকি কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
তাঁর মতে, গভর্নর পদে এ ধরনের নিয়োগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক খাতে পড়তে পারে।































