ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার যানবাহনের জন্য তেল ক্রয়ের সীমা কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ বা আগামীকালের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
ঈদের আগে জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ভারী যানবাহনের মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আপাতত তেলের রেশনিং পুরোপুরি তুলে নেওয়া হচ্ছে না, তবে মোটরবাইক, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে তেল নেওয়ার সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এছাড়া এপ্রিলে সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আমদানির দুটি প্রস্তাব যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। প্রস্তাব দুটি চূড়ান্ত হলে তা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার থেকে ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আসা শুরু হয়েছে।
দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি এলাকায় আটকে পড়া দুটি জাহাজ ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এর মধ্যে একটি জাহাজ বিপিসির এবং অন্যটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন–এর বাণিজ্যিক জাহাজ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে কমে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে এসেছে।
সরকার ইতোমধ্যে রাইড–শেয়ারিং মোটরসাইকেলের জন্য তেল নেওয়ার সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে ১০ লিটারের পরিবর্তে ১৫ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সীমা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
গত শনিবার থেকে সরকার সব ধরনের যানবাহনের জন্য তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে রেশনিং চালু করে। ফলে ফিলিং স্টেশন থেকে নির্ধারিত সীমার বাইরে তেল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিদেশি মিশনের গাড়িসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতকে রেশনিংয়ের বাইরে রাখা হতে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ইতোমধ্যে একটি ডিজেলবাহী জাহাজ তেল খালাস করেছে এবং আরও একটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। ১২ ও ১৩ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এছাড়া ২৪ ও ২৫ মার্চও দুটি পার্সেল আসবে। মার্চ মাসে মোট ১৬টি পার্সেলের মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে এসেছে বা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে চলতি মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একটি কার্গোতে চাহিদার তুলনায় বেশি গ্যাস থাকায় সেটি মার্চের পরিবর্তে আগামী মাসের শুরুতে দেশে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।































