বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪, শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

হাওরের মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

মো. সাহিদ আহমেদ

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আপডেট: ১৯:৩৭, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

হাওরের মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

বক্তব্য রাখছেন প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

হাওরের মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের স্বতঃস্ফূর্ত লেখনী গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা গণমিলনায়তনে ‘দিরাই প্রেস ক্লাবে’র অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দিরাই-শাল্লা হাওরাঞ্চল গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ঐতিহাসিক এলাকা। এ অঞ্চলে বহু রথিমহারথি জন্মেছেন। সমৃদ্ধ এ অঞ্চলকে নিয়ে স্বাধীনতার পরই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলেন। হাওর ও জলাভূমি এলাকার জনগণের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। কিন্তু হাওর উন্নয়ন বোর্ড গঠন হলেও যে স্বপ্ন নিয়ে এই সংস্থা গঠন করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, তার কিছুই সম্ভব হয়নি।  পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। হাওড়বাসীর জীবনমান সেই তিমিরেই থেকে যায়। আর হাওর উন্নয়ন বোর্ডও অকার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর খুঁড়িয়ে চলতে থাকা বোর্ডটিও বিলুপ্ত করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পিতার মতো হাওরাঞ্চলের প্রতি সবসময়ই বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। ১৯৯৮ সালের ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইনে এক জনসভায় তিনি হাওড় ও জলাভূমি এলাকার উন্নয়নে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ড’ এবং বোর্ডের ‘কার্যনির্বাহী কমিটি’ গঠন করা হয়। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর হাওর এলাকার জনজীবন, জীবিকা, পরিবেশ, প্রতিবেশ উন্নয়নে ২০১২ সালে ‘হাওড় মহাপরিকল্পনা’ প্রণীত হয়। আর হাওর ও জলাভূমি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তর ঘোষণার নির্দেশনা দেন।

আজ বঙ্গবন্ধু নেই; কিন্তু আমাদের মধ্যে আছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাওড়ের মতো সুবিস্তীর্ণ হৃদয়ের অধিকারী তিনি। হাওড় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দিরাই প্রেস ক্লাবের নবগঠিত কমিটির কাছে একটাই চাওয়া আপনারা ভাটি বাংলার সমস্যা গুলো নিয়ে লিখুন। হাওরের কল্যাণে আপনাদের লিখনী গুরুত্বপূর্ণ।

প্রেস ক্লাব সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার খেজুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, দিরাই-শাল্লা সুনামগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য জয়া সেন গুপ্ত এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র বিশ্বজিৎ রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসিনা বেগম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আল আজাদ, দৈনিক যুগান্তরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নেসারুল হক খোকন, ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুদ্র মিজান, ভোরের কাগজ সিলেট অফিসপ্রধান ফারুক আহমদ। পারমিতা দাস ও আবু হানিফ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দিরাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ স্থানীয় শিল্পীরা।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়