মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২, অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৯

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

‘দিন: দ্যা ডে-পরান-হাওয়া’র দিনে ধন্যবাদ পেতেই পারেন অনন্ত জলিল

মো. সাহিদ আহমেদ

প্রকাশিত: ১৪:৪৩, ২ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ১৫:১৭, ২ আগস্ট ২০২২

‘দিন: দ্যা ডে-পরান-হাওয়া’র দিনে ধন্যবাদ পেতেই পারেন অনন্ত জলিল

পরান, হাওয়া, দিন দ্যা ডে সিনেমার পোষ্টার

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস সমৃদ্ধ হলেও ৯০ দশকের পর থেকেই সিনেমার দুর্দিন শুরু হয়। নায়ক মান্না বেঁচে থাকা অবস্থায়ও সিনেমা হলমুখী ছিল মানুষ। দিন যত যেতে থাকে ততই সিনেমার দুঃসময় চলতে থাকে। এক টিকিটে দুই ছবির মত অশ্লীলতায় যখন সিনেমা পাড়া ছেয়ে ছিল তখন অলিখিত যোদ্ধা হিসেবে সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব বর্তায় শাকিব খানের উপর।

অভিনেতা ডিপজলের প্রযোজনায় আবারও দর্শক ফিরে পায় ভিন্ন ধারার সিনেমা। ‘চাচ্চু,দাদিমা, কোটি টাকার কাবিন আজও গেঁথে আছে সিনেমা প্রেমিদের মনে।‘

নেট ফ্লিস্কের যুগে যখন মানুষ ঘরে বসে সিনেমা দেখে অভ্যস্ত। তখন কেউ কি ভেবেছিল বাংলাদেশের সিনেমার দুর্দিনে ১ সপ্তাহের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে যাবে?

অভাবনীয় হলেও সত্য অনন্ত জলিলই করে দেখিয়েছেন। যে এখনও বাংলাদেশের মানুষ সিনেমাকে ভালোবাসে। এবং থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখে।

দিন: দ্যা ডে`র প্রচারণায় অনন্ত জলিল

প্রায় ২ বছর ধরে অনন্ত জলিল দিন: দ্যা ডে'র প্রচারণা করে আসছিলেন। বাংলাদেশের সবারই মনে উদ্দীপনা ছিল এই সিনেমা নিয়ে। সিনেমাটি ঈদুল আযহা’য় মুক্তি পাওয়ার ১মাস আগে থেকেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ট্রেইলারে অনন্ত জলিল বেশ কিছু চমকের পাশাপাশি হাস্যরসের স্বীকার হন। নেটিজনেরা অনেকেই ১০০ কোটি টাকার বিগ বাজেটের এই সিনেমার ভিএফএক্সকে দুর্বল মনে করে সমালোচনা করতে থাকে। এরই মধ্যে সিনেমাটি সবারই নজর কাড়ে, এবং মানুষের আলোচনা বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

দিন: দ্যা ডে’র মুক্তির পর থেকেই টিকিট পাচ্ছিলো না দর্শক। শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা, যার কারনে প্রচুর মানুষ হল মুখী হয়।  সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে দিন দ্যা ডে।

ঈদুল আযহায় দিন: দ্যা ডে'র পাশাপাশি মুক্তি পায় শরিফুল রাজের 'পরান' । ছবিটি দিন দ্যা ডে সিনেমার তুলনায় দর্শকদের থেকে পজেটিভ রিভিউ পেতে শুরু করে। অনেকেই অভিনেতা শরিফুল রাজকে তার লুক ও অভিনয়ের প্রশংসায় ভাসায়। এরপর মিডিয়ার হট টপিকে রূপ নেয়;  দিন: দ্যা ডে ও পরান। প্রচুর কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। সিনেমা প্রেমীরাও ‘দিন: দ্যা ডে' দেখার পাশাপাশি ‘পরান’ সিনেমাটি দেখতেও উৎসাহী হয়ে ওঠে। এবং দিন শেষে বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি পায় দর্শক মুখর পরিবেশ।

ছবি দুটি টানা দুই সপ্তাহ মিডিয়ার আলোচনায় থাকে। এরই মধ্যে ছবি দুটির আমেজ শেষ হওয়ার আগেই সফলতার ঝুড়িতে নতুন পালক যোগ করতে দর্শকদের সামনে এসে হাজির হয় 'হাওয়া'।

চঞ্চল চৌধুরীর উপস্থিতিতে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে আসে হাওয়া।

রাজধানীতে পরান` হাওয়া`র পোষ্টার

হাওয়া’র ট্রেইলারেই বাংলাদেশের সিনেমা প্রেমীরা খুজে পায় ‘ভিন্নতা’। অপেক্ষা করতে থাকে সিনেমাটি রিলিজের। সিনেমাটির সাদা সাদা কালা কালা গানটি রিলিজ দেয় সিনেমাটির সংশ্লিষ্টরা। গানটিও দর্শক মহলে প্রশংসিত হয়।

সিনেমাটি রিলিজের সপ্তাহ খানেক আগে অগ্রিম  টিকিট বুকিং করে ফেলে সিনেমা প্রেমীরা।  এমনকি সিনেমা দেখার জন্য দেশের একেক অঞ্চলে সিনেমাপ্রেমীদের লম্বা লাইন দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে যেখানে সিনেমা হলে যাওয়ার দর্শক পাওয়া যায়না। সেখানে মধুমিতা সিনেমা হলে দেড়শ টাকা টিকিট ব্ল্যাকে ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করে ব্ল্যাকাররা। এবং তা নিয়ে হাতাহাতির মত ঘটনাও ঘটে।

এখনও হাওয়া চলছে। খুব সফলতার সাথে হাওয়া এগিয়ে যাচ্ছে। হাওয়ার মেকিং, গল্প, গান সবকিছুই দর্শক মহলে প্রশংসিত। অথচ কিছুদিন আগেই সুন্দর গল্পের, সুন্দর মেকিংয়ের সিনেমা চঞ্চল চৌধুরীর ‘পাপ পূর্ন’। সিনেমাটিতে হালের ক্রেইজ সিয়াম আহমেদও ছিলেন। তবুও দর্শক পর্যন্ত পোঁছাতে ব্যর্থ হয় চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত সিনেমা ‘পাপ পূর্ন’। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে মানুষ সিনেমা হলে যাচ্ছে। সিনেমা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছে। শুরু হয়েছে সিনেমার জয়জয়কার। এখন সিনেমার এই সুদিনের কাণ্ডারি হিসেবে একটা ধন্যবাদ অনন্ত জলিল পেতেই পারেন। কেননা এই সিনেমার সুদিন অনন্ত জলিলের হাত ধরেই ফিরে এসেছে।

‘অনন্ত জলিলের বিগ বাজেটের সিনেমা দেখার আগ্রহ থেকেই আজ সিনেমা প্রেমীরা সিনেমা হলে ফিরেছে।‘

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়