ছবি সংগৃহীত
প্রতিদিন গোসল করা আধুনিক জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাসগুলোর একটি। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, সবার জন্য প্রতিদিন গোসল করা বাধ্যতামূলক নয়। বরং অতিরিক্ত সাবান ও পানি ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং ত্বকের স্বাভাবিক অণুজীবসমষ্টি বা ‘স্কিন মাইক্রোবায়োম’-এর ভারসাম্য ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোসলের প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম, ঘাম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির ওপর গোসলের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে। তবে গোসল কম করলেও নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন গোসলের অভ্যাস কীভাবে তৈরি হলো?
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন গোসল করার সংস্কৃতি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। গত শতকে ঘরে ঘরে পানির সরবরাহ, শাওয়ার এবং ব্যক্তিগত বাথরুমের সহজলভ্যতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনিক গোসলের অভ্যাসও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন শিল্পও গোসলকে শুধু শরীর পরিষ্কারের উপায় হিসেবে নয়, বরং সতেজতা, মানসিক প্রশান্তি ও নতুন উদ্যমের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে প্রতিদিন গোসল করা অনেক সমাজে স্বাস্থ্যবিধির পাশাপাশি একটি সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।
কম গোসল নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
চিকিৎসক জেমস হ্যাম্বলিনের মতে, কম গোসল করার বিষয়টি নিয়ে যারা উপহাস করেন, তারা ত্বকের প্রাকৃতিক অণুজীবসমষ্টি বা ‘স্কিন মাইক্রোবায়োম’ সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক ধারণার বিষয়টি হয়তো বিবেচনায় নেন না।
ত্বকে থাকা বিভিন্ন ধরনের অণুজীব ত্বকের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত পরিষ্কার করার ফলে এই স্বাভাবিক ভারসাম্য প্রভাবিত হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে গোসল বা শরীর পরিষ্কার করা প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি, বিশেষ করে ঘাম, ময়লা বা শারীরিক পরিশ্রমের পর।
কম গোসল করতে চাইলে যা করতে পারেন
প্রয়োজন অনুযায়ী গোসল: শুধু অভ্যাসের কারণে নয়, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী গোসল করা যেতে পারে। বিশেষ করে ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ঘামের পর গোসল করা উপকারী।
গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিষ্কার রাখা: প্রতিবার পুরো শরীরে সাবান ব্যবহার না করে বগল, কুঁচকি ও পায়ের মতো দুর্গন্ধ বা ঘামের প্রবণ জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা যেতে পারে।
সতেজতার বিকল্প অভ্যাস: দিনের কাজ শেষে মানসিক প্রশান্তির জন্য শুধু গোসলের ওপর নির্ভর না করে হাঁটা, বিশ্রাম বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
নিয়মিত হাত ধোয়া: গোসলের সংখ্যা কমালেও হাত ধোয়ার অভ্যাসে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। খাবারের আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে, দৈনিক গোসল করা বা না করা নিয়ে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, ত্বকের ধরন, আবহাওয়া ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই গোসলের অভ্যাস ঠিক করা উচিত।































