সোমবার ২০ মে ২০২৪, জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩১

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

ভোক্তা অধিকার আইন জানা কেন জরুরি?

মো. সাহিদ আহমেদ

প্রকাশিত: ১৪:২৫, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১৪:২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

ভোক্তা অধিকার আইন জানা কেন জরুরি?

ছবি: ইন্টারনেট

বর্তমানে দেখা যায় পণ্যের ক্রয় বা সেবা গ্রহণের সময় বিভিন্নভাবে অধিকাংশ ভোক্তা প্রতারণার শিকার হন বা হচ্ছেন। তাই প্রতারণা থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নামে আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইনে একজন ভোক্তা কোন পণ্য ক্রয়ের সময় কি কি অধিকার ভোগ করতে পারবেন তা উল্লেখ আছে। তার মধ্যে যথাযথ ক্রয়কৃত পণ্যের ওজন ও পরিমাণ ঠিক আছে কিনা, কি কি কাঁচামালের সমন্বয়ে পণ্যের উৎপাদন হয়েছে আর মোড়কীকরণ ও পণ্যের সঠিক মূল্য সম্পর্কে জানার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও ভোক্তা অধিকার আইনে ভোক্তার অধিকার কি- তা আমরা অনেকেই জানি না। আসলে যখন একজন ভোক্তা কোন দ্রব্য বা পণ্য ক্রয় করেন সেসময় পণ্য সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানার অধিকার রয়েছে। সেই সঙ্গে তার ক্রয়কৃত পণ্যের উৎপাদনের সময়কাল, মেয়াদউর্ত্তীন সময় ও পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য উপাত্ত জানার অধিকার রয়েছে। এটা জানা একজন নাগরিকের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব বন্ধে আইনের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন। নাগরিক হিসেবে একজন মানুষের রাষ্ট্রীয় কিছু সুযোগ সুবিধা ভোগ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে অন্যান্য সব অধিকার থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম ভোক্তার অধিকার।

দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ দেখা যায় না। ভোক্তাদের সচেতনতার অভাব ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অধিকাংশ ভোক্তারা।

ভোক্তা অধিকার আইনে কি বলা আছে?

সচেতনতার মাধ্যমে ভোক্তাদের এই আইন সম্পর্কে সচেতন করাটা জরুরী। আর আশে পাশে আমরা যারা এই আইন সম্পর্কে জানি তারা আমাদের পাশের মানুষকে জানানোর মাধ্যমে সঠিক পদ্ধতিতে অভিযোগ দায়ের দ্বারা প্রতিকারের ব্যবস্থা করে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব কমাতে পারি। শাস্তির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব কমলে ভোক্তা বা সেবা গ্রহীতাদের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে মোট ৮২টি ধারা ও কয়েকটি উপধারা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধারার মধ্যে আছে কোন পণ্যের মোড়ক না থাকলে কিংবা পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় বিক্রেতাকে অনধিক ১ বছরের কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে পারেন আদালত।

যদি কোন বিক্রেতা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করেন তাহলে বিক্রেতাকে অনধিক ১ বছর কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা যেতে পারে উক্ত আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী।

তাছাড়া কোন বিক্রেতা যদি ভেজাল পণ্য বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকেন তাহলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪১ ধারায় বিক্রেতাকে ৩ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা যেতে পারে বলে আইনে উল্লেখ আছে।

যদি কোন বিক্রেতা পণ্যের উৎপাদনের সময় নিষিদ্ধ উপকরণ মিশ্রণ করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তাহলেও সর্বেোচ্চ ৩ বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করতে পারেন আদালত।

ইচ্ছাকৃতভাবে অধিক মুনাফার লোভে বিক্রেতা মিথ্যা তথ্য বা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতাকে আগ্রহ সৃস্টির মাধ্যমে ক্রেতার সাথে প্রতারণা করলে এই আইনের ৪৪ ধারায় অনধিক ১ বছর কারাদন্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান আছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়