সোমবার ২০ মে ২০২৪, জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩১

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

পোষা প্রাণীর বমি ও করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৭, ১৭ জুন ২০২৩

পোষা প্রাণীর বমি ও করণীয়

ছবি: ইন্টারনেট

পোষাপ্রাণী

পোষা প্রাণীর বমি হতে দেখা প্রাণীর মালিকের জন্য কষ্টকর হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বমি হওয়া সব সময় খারাপ নয়। পোষা প্রাণী তথা কুকুর বিড়াল নানা কারণে বমি করতে পারে। যদি তারা এমন কিছু খায় যেগুলো তারা হজম করতে পারে না যেমন- শিশুদের খেলনা, শক্ত হাড়, হেয়ার বল ইত্যাদি। তাহলেই বমি করতে পারে।

যা- হোক, বমি যদি হঠাৎ করে একবার দুবার হয় তবে তা নিয়ে তেমন চিন্তিত হবার কারণ নেই। কিন্তু যদি বমি ঘন ঘন হতে থাকে তবে চিন্তার কারণ থাকবেই। কারণ অনেক রোগ সংক্রমণ রয়েছে যেগুলোর লক্ষণ বা উপসর্গ হচ্ছে বমি হওয়া।

যদি আপনার পোষা প্রাণীর বমি হতে দেখেন তবে প্রাণীগুলোর প্রতি গভীর মনোযোগ রাখবেন। বমি কি একবারই হয়েছে নাকি তা বারবার হচ্ছে বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন।

যেসব কারণে কুকুর বমি করতে পারে :

কুকুর নানাবিধ কারণে বমি করতে পারে। কুকুরের বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক পদ্ধতি হচ্ছে বমি করা। কারণ তাদের প্রায় সব ধরনের বস্তুই খাওয়ার একটা প্রবণতা রয়েছে। তাই এমনকিছু খেয়ে ফেলল যা তাদের হজম হবে না কিংবা যা তাদের খাদ্য নয়। সে সময় বমির মাধ্যমে তা পেট থেকে বের করে দিবে।

যা- হোক, বমি অনেক সময় মারাত্মক রোগ সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন- পাকস্থলীর কোথাও বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রদাহ, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, আলসার, এলার্জিজনিত কারণ, কিডনির রোগ, ক্যান্সার, পরজীবীঘটিত কারণ, বিষ বিষক্রিয়া ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি কারণেও আপনার আদরের পোষা কুকুরটি বমি করতে পারে।

যেসব কারণে বিড়াল বমি করতে পারে :

যদিও অনেক মারাত্মক রোগের উপসর্গ হচ্ছে বমি। কিন্তু আপনার বিড়ালটি অতি সাধারণ কারণেও বমি করতে পারে। তেমনই এক অতি সাধারণ কারণ হচ্ছে খাদ্য গ্রহণের সময় দ্রুত খাবার গিলতে গিয়ে বমি করা। এছাড়াও এমনকিছু অখাদ্য খেয়ে ফেলে যা তাদের খাদ্য নয়।

বিড়ালও হেয়ার বল খেয়ে বমি করতে পারে। সাধারণত বিড়াল তাদের শতকরা ৩০ ভাগ সময় ব্যয় করে লোম পরিষ্কারের জন্য। এসময় দুই তৃতীয়াংশ লোম খেয়ে ফেলতে পারে। যেগুলো খাদ্যনালীতে বল তৈরি করে। এটিকেই হেয়ার বল বলা হয়। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বিড়াল বমি করতে পারে।

ব্যবস্থাপনা চিকিৎসা :

যদি আপনার পোষা প্রাণী হঠাৎ একবার বা দুবার বমি করে থাকে তাহলে তেমন কিছুই করার দরকার নাই। শুধুমাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য সব ধরনের খাদ্য প্রদান থেকে বিরত রাখবেন। এসময় নজর রাখবেন আপনার পোষা প্রাণীটি ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে কিনা? যদি অসুস্থ হয়ে না পড়ে তাহলে ধীরে ধীরে পানি হালকা খাবার পরিবেশন করতে থাকবেন। অতঃপর ধীরে ধীরে নিয়মিত পরিবেশনকৃত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাবার প্রদান করবেন।

যদি আপনার প্রাণীটি বারবার বমি করতে থাকে তাহলে দ্রুত প্রাণী চিকিৎসকের সরনাপন্ন হতে হবে। যদি দেখেন উপসর্গগুলো তেমন মারাত্মক নয় কিন্তু আপনি চিন্তিত সেক্ষেত্রে প্রাণী চিকিৎসকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পারেন। তবে ভাল হয় প্রাণীটি নিয়ে প্রাণী চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অথবা বাড়িতে কোনো প্রাণী চিকিৎসককে ডাকা।

মনে রাখবেন যদি ঘন ঘন বমি করে, তীব্রভাবে বমির উপাদানগুলো বেরিয়ে আসে, মারাত্মক ডায়রিয়া হয় পেট ব্যথা থাকে, রক্তের সাথে বমি আসে সেক্ষেত্রে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ঢাকার কেন্দ্রীয় প্রাণী হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে পরিচালিত রাজধানীর পূর্বাচলে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম পোষা প্রাণীর হাসপাতাল, উপজেলা প্রাণী হাসপাতালসহ সরকারি বেসরকারিভাবে অনেকগুলো পোষা প্রাণীর চিকিৎসালয় রয়েছে এদেশে। এসব স্থানে আপনার পোষা প্রাণীর উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন।

প্রতিরোধ :

বমির অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পোষা প্রাণীর বমি হয় এমনকিছু খাদ্য গ্রহণ করে যেগুলো সাধারণত তারা খেতে চায় না। যদি এমনটিই ঘটে থাকে তাহলে প্রাণী চিকিৎসককে আপনার প্রাণীটি দেখিয়ে জেনে নিবেন আপনার প্রাণীর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র : রয়েল ক্যানাইন.কম.এইউ, পেটমেডস.কম।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়