ছবি সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গিতে দুর্বৃত্তের কোপে দুই হাত তালু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলো কলেজ শিক্ষার্থী তাসফিন ফেরদৌসের। ঘটনাটি ঘটেছিল ৯ নভেম্বর। টঙ্গী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকা মেডিকেল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছাতে সময় লাগে ছয় ঘণ্টার বেশি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা হাল ছাড়েননি।
২০ ঘণ্টা পর কুড়িয়ে আনা হাত দুটি পুনরায় জোড়া লাগিয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডা. শরিফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা। বুধবার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা জানান, এত দীর্ঘ সময় পর এমন প্রতিস্থাপন সফল হওয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এবং বাংলাদেশে এটাই প্রথম।
তাসফিন বলেন, তিনি কখনোই ভাবেননি বিচ্ছিন্ন দুই হাত আবার ফিরে পাবেন। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তার হাত সচল এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আশা করছেন। তার মা আফরোজা সুমি বলেন, প্রথমে তারা হাতই খুঁজে পাননি। পরে পাওয়া গেলেও ছেলের জীবন নিয়ে শঙ্কা ছিল। এখন তার সুস্থতা তাদের কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছে।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, তারা নিয়মিত বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেন, কিন্তু মানুষ জানে না। তাই অনেক রোগী সময় পেরিয়ে আসে। যথাসময়ে এলে আরও বেশি রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব। তিনি শরীরের কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হলে দেরি না করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনার আহ্বান জানান।































