মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২, অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৯

Aloava News24 | আলোআভা নিউজ ২৪

মুসলিম বিয়ের কাবিননামায় কুমারী শব্দ রাখা যাবে না : হাইকোর্ট

আলো আভা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ২০ নভেম্বর ২০২২

মুসলিম বিয়ের কাবিননামায় কুমারী শব্দ রাখা যাবে না : হাইকোর্ট

ছবি সংগৃহীত

মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে কাবিননামার নম্বর কলামে থাকাকুমারীশব্দটি সংবিধান পরিপন্থী এবং তা বাতিল ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ৩২ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। রায়ে কাবিননামা থেকেকুমারীশব্দ বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে পৃথক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন উভয় বিচারপতি।

রায়ে বলা হয়েছে, কাবিননামায় কুমারী শব্দ থাকা নারীর জন্য অপমানজনক, বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং সংবিধান সিডও সনদের (বৈষম্য বিলোপ সনদ) পরিপন্থী। কারণে ছয় মাসের মধ্যে কাবিননামার ফরম থেকেকুমারীশব্দ বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নাইমা হায়দার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নিকাহনামার ২১ ২২ নম্বর দফায় বরের বর্তমানে কোনো বিবাহ বলবৎ আছে কিনা, কেবল সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বর তালাকপ্রাপ্ত বা বিপত্নীক অথবা কুমার কিনা, বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, বিতর্কিত নম্বর দফায় কন্যা তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা কিনা, পাশাপাশি কন্যা আগে কোথাও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন কিনা, ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে যা অপমানজনক, বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট এবং সংবিধান সিডও সনদের পরিপন্থী। ধরনের তথ্য চাওয়ার বিধান সংবিধানের ২৭, ২৮ ৩১নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষায় ধরনের হস্তক্ষেপ সংবিধানের ৩১ ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংরক্ষিত নারীর ব্যক্তিত্ব আত্মমর্যাদার অধিকার ক্ষুণ্ন করে। অবিবাহিত শব্দের পরিবর্তে কুমারী শব্দের প্রয়োগ নারীর জন্য অমর্যাদাকর অপমানজনক যা সংবিধানের ৩২নং অনুচ্ছেদ এবং সিডও সনদের লঙ্ঘন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়